জাতিসংঘে জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধির বার্তা বাংলাদেশের

জাতিসংঘে জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধির বার্তা বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক : July 11, 2026

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামে জলবায়ু সহনশীলতা, পানি নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্পায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ। 

 

শনিবার (১১ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানায়।

 

ফোরামে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আউয়াল জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেচব্যবস্থা জোরদার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার এবং গ্রামীণ ও শহুরে জনগণের জন্য নিরাপদ পানীয়জল নিশ্চিত করতে সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে।

 

একইসঙ্গে তিনি তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পসহ আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

এসডিজি-৯ বিষয়ক পৃথক এক সেশনে ড. আউয়াল বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের মূলভিত্তি হিসেবে সহনশীল অবকাঠামো, টেকসই শিল্পায়ন এবং উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি জানান, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার দক্ষতা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিনিয়োগ জোরদার করছে।

 

পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের কৃষি, জৈবপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, চামড়াশিল্প, ডিজিটাল এবং সৃজনশীল শিল্পখাতে বিনিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানান।

 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে এবং টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অনুকূল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অধ্যাপক আউয়াল উল্লেখ করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share This