বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম প্রযুক্তি জগতে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জুলকার নায়েন।
তিনি বলেন, ১৯২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সত্যেন বোস উপপারমাণবিক কণার আচরণ নিয়ে যে গবেষণার সূচনা করেছিলেন, পরবর্তীতে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের সঙ্গে যৌথভাবে তা ‘বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট (BEC)’ তত্ত্বে রূপ নেয়। বর্তমানে এই তত্ত্বকে আধুনিক কোয়ান্টাম প্রযুক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রচলিত কম্পিউটারের তুলনায় বহুগুণ দ্রুতগতিতে জটিল গাণিতিক ও বিশ্লেষণধর্মী কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। ওষুধ আবিষ্কার, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, লজিস্টিক ও সিমুলেশন প্রযুক্তিতে এটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি শুধু সুযোগই নয়, নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। বিশেষ করে প্রচলিত এনক্রিপশন ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফির ওপর গুরুত্বারোপ করা জরুরি।
রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষা কারিকুলামে কোয়ান্টাম বিজ্ঞান ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সংযোজনের পাশাপাশি জাতীয় কোয়ান্টাম নীতিমালা প্রণয়নও সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য জার্মানি বর্তমানে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করছে।
সম্প্রতি জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোয়ান্টাম শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে এ খাতে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।