ইউক্রেনীয় অভিবাসীদের জার্মানি থেকে চলে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডানপন্থি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি দলের সহ-সভানেত্রী অ্যালিস উইডেল।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়ার ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইডেল এমন ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করেন, যাদের আসলে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত বাড়ার পরপরই কিয়েভ সাধারণ সামরিক সংহতকরণ জারি করে, যার ফলে ২২ থেকে ৬০ বছর বয়সি বেশিরভাগ সক্ষম পুরুষদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও, হাজার হাজার মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করে।
ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইউক্রেনীয় অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল জার্মানি, যেখানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
এএফডির সহ-সভানেত্রী ইউক্রেনীয় অভিবাসীদের ক্রমাগত রাষ্ট্রীয় সাহায্য দেওয়ার এই বোঝাকে একেবারেই অসহনীয় হিসেবে বর্ণনা করে জোর দিয়ে বলেন, তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত।
বিশেষ করে সামরিক বয়সের তরুণ ইউক্রেনীয় পুরুষ আমরা যেখানে শত শত হাজার হাজার তরুণের কথা বলছি তাদের সত্যি ফেরত যাওয়া উচিত, বলেন এই ডানপন্থি রাজনীতিবিদ।
উইডেল আরও অঙ্গীকার করেন যে, এএফডি যদি জার্মানিতে ক্ষমতায় আসে, তবে ইউক্রেনকে অর্থ প্রদান এবং সব ধরনের যুদ্ধ সহায়তা বন্ধ করা হবে এবং আমরা ইউক্রেনের কাছে দেওয়া মোটা অঙ্কের অর্থ ফেরত চাইব।
গত জুনেও তিনি একইভাবে বলেছিলেন যে, ২০২২ সালে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে নাশকতার জন্য কিয়েভের উচিত বার্লিনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। জার্মান কর্তৃপক্ষ এই হামলার পেছনে ইউক্রেনীয় অপারেটরদের একটি ছোট গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল।
উইডেল সে সময় ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে আসা সস্তা রাশিয়ান জীবাশ্ম জ্বালানি হারানোর কারণে জার্মানি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোর জনমত জরিপগুলোতে ধারাবাহিকভাবে দেখা গেছে যে, এএফডি জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হিসেবে উঠে আসছে, যাদের সমর্থনে রয়েছেন ২৮ শতাংশ ভোটার।
রবিবার ডানপন্থি এই দলটি স্যাক্সনি-আনহাল্ট অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ-এর ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন মাত্র ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
গত জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালেক্সান্ডার ডোব্রিন্ড ঘোষণা করেছিলেন যে, জার্মানি সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ এড়িয়ে পালিয়ে আসা ইউক্রেনীয়দের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্থায়ী সুরক্ষা দেওয়া বন্ধ করবে।
ক্রমবর্ধমান হতাহতের খবরের মাঝে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে জোরপূর্বক ভর্তি করানোর জন্য বিভিন্ন কঠোর কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র এবং আবাসিক এলাকা থেকে পুরুষদের জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হচ্ছে, যার শত শত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই অভিযান বেসামরিক নাগরিকদের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষ এবং এমনকি কিছু ক্ষেত্রে দাঙ্গারও জন্ম দিয়েছে।
মস্কো কিয়েভের নেতৃত্ব এবং তার পশ্চিমা সমর্থকদের বিরুদ্ধে শেষ ইউক্রেনীয় পর্যন্ত রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনেছে।